ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন

যুক্তরাজ্যে পরিচয় গোপন রেখে ৮৫৫৬ কোটি ডলারের সম্পদ

মালিকদের তথ্য গোপন রেখে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রায় আড়াই লাখ সম্পত্তি কেনা হয়েছে।

মালিকদের তথ্য গোপন রেখে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রায় আড়াই লাখ সম্পত্তি কেনা হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের গবেষণা অনুসারে, এসব সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য অন্তত ৬ হাজার ৪০০ কোটি পাউন্ড বা ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের বেশি। সেখান বলা হচ্ছে, আইনি কাঠামোর ফাঁকফোকর এখন যুক্তরাজ্যকে অর্থ লুকিয়ে রাখতে ‘দুর্নীতিবাজদের পছন্দের মাধ্যম’ করে তুলেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ব্রিটিশ সরকার ২০২২ সালের আগস্টে অফশোর কোম্পানি বা ট্রাস্টের মালিকানাধীন সম্পত্তির একটি নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করে, যা পরিচয় গোপন রেখে সম্পত্তি কিনেছেন এমন অনেকের পরিচয় ফাঁস করে দেয়। যেখানে ছিলেন লুইস হ্যামিলটন ও জেমস ডাইসনের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তি, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রুশ নাগরিক, উপসাগরীয় রাজপরিবারের সদস্য ও চীনা সরকার।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এ নিবন্ধন ব্যবস্থা এখনো হাজার হাজার সম্পত্তির মালিককে পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ দেয়। তারা ট্রাস্টের মালিকানাধীন কোনো কোম্পানির নামে সম্পদ নিবন্ধন করার মাধ্যমে নিজেদের আড়ালে রাখতে পারেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে অন্তত ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০টি সম্পত্তি এ ধরনের ‘অস্বচ্ছ’ কাঠামোর আড়ালে রয়েছে, যেগুলোর মূল্য অন্তত ৬ হাজার ৪০০ কোটি পাউন্ড। এসব সম্পত্তির মালিকদের অনেকেই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল আরো বলছে, ব্রিটিশ সরকার নিজেই এক প্রতিবেদনে স্বীকার করেছে যে ট্রাস্টগুলো রুশ নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার চেষ্টাকে ব্যাহত করছে। এর মাধ্যমে তারা সম্পদ গোপন রাখতে ও সরিয়ে নিতে পারছে। যার প্রতিকার হিসেবে কাঠামোগত ফাঁকফোকর বন্ধ ও ট্রাস্টের মাধ্যমে মালিকানাধীন সম্পত্তির প্রকৃত মালিকদের পরিচয় প্রকাশ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

লেবার পার্টির এমপি এবং ব্রিটিশ সরকারের সর্বদলীয় দুর্নীতি ও করবিষয়ক সংসদীয় গ্রুপের চেয়ারম্যান জো পাওয়েল বলেন, ‘গবেষণাটি নিশ্চিত করেছে, ট্রাস্টগুলো দুর্নীতিবাজদের জন্য অবৈধ সম্পদ গোপন ও নজরদারি এড়ানোর প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

নিজের নির্বাচনী এলাকা লন্ডনের কেনসিংটন ও চেলসিতে প্রায় ৪০ শতাংশ বিদেশী মালিকানাধীন সম্পত্তি ট্রাস্টের মাধ্যমে কেনা বলেও উল্লেখ করেন জো পাওয়েল। তিনি বলেন, ‘সরকার দুর্নীতি মোকাবেলায় এরই মধ্যে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু ট্রাস্ট এখনো যুক্তরাজ্যের স্বচ্ছতা কাঠামোয় বড় একটি দুর্বলতা।’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের গবেষণার কিছু উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন একটি ৬ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড মূল্যের লন্ডনের অ্যাপার্টমেন্ট এক রুশ অলিগার্কের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত হলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জব্দের আদেশ দেয়া হয়নি। অথচ ফ্রান্সে এ ধরনের সম্পত্তি জব্দ করা হয়।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ গবেষক মারগট মোলাট বলেন, ‘যারা সম্পদ লুকাতে, সন্দেহজনক সম্পদের উৎস গোপন করতে এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চায়, তাদের জন্য ট্রাস্ট একটি স্পষ্ট পছন্দ। যদি যুক্তরাজ্য সত্যিই বৈশ্বিক দুর্নীতিবিরোধী কেন্দ্র হতে চায়, তবে অবশ্যই ট্রাস্ট সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে।’

ট্রাস্ট রেজিস্ট্রেশন সার্ভিসে তৃতীয় পক্ষের প্রবেশাধিকার দেয়া হবে কিনা, বর্তমানে তা নিয়ে পরামর্শ নিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। এখন এটি শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য উন্মুক্ত।

ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ২৫ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের রুশ সম্পদ জব্দ করেছি এবং আমাদের মিত্রদের সঙ্গে মিলে রাশিয়ার ৩০০ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেছি—যা রাশিয়ার চার বছরের সামরিক বাজেটের সমান।’

আরও